শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন

সুবিধাবঞ্চিতদের ভাতার টাকা যাচ্ছে অন্য নম্বারে! ব্যবস্থা নেয়নি সমাজ সেবা অধিদপ্তর

সুবিধাবঞ্চিতদের ভাতার টাকা যাচ্ছে অন্য নম্বারে! ব্যবস্থা নেয়নি সমাজ সেবা অধিদপ্তর

জামান মৃধা, ডিমলা (নীলফামারী)

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় অর্ধশত বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীর ভাতা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাদের অভিযোগ, তাদের ভাতার টাকা মোবাইলে না এসে অন্যের মোবাইলে রহস্যজনকভাবে চলে গেছে। আবার কারো কারো মোবাইলে টাকা ঢুকেই নাই।

 

 

এসব নম্বারে কল দিলেও কেউ ফোন রিসিভ করেন না। এরমধ্যে কিছু ভুক্তভোগীর একাউন্ট ঠিক করে দিলেও বেশিরভাগ ভুক্তভোগী এখনো টাকা পায়নি।

 

 

সংশ্লিষ্টরা বলছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা এবং প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের দীর্ঘ হয়রানি দূর করতে গভার্নমেন্ট টু পারসন (জিটুপি) অর্থাৎ কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি ভাতাভোগীদের হাতে ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই আলোকে ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ব্যক্তিগত মোবাইল একাউন্টের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে সরকার। ভাতাভোগীরা ইউনিয়ন পরিষদ তথ্যসেবা কেন্দ্র ও সমাজসেবা অফিসের সুপারভাইজারের মাধ্যমে মোবাইল একাউন্ট নিশ্চিত করে নিজ নিজ মোবাইল নম্বর অফিসে জমা দেন।

 

 

অভিযোগ সূত্রে, স্বামীর মৃত্যুর পর গত দুই বছর ধরে বিধবা ভাতা পাচ্ছেন সদর ইউনিয়ন দক্ষিণ তিতপাড়া গ্রামের খতেজা বেগম। কিন্তু গত ৬ মাস ধরে ভাতার টাকা পাচ্ছেন না তিনি। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, তার দেওয়া মোবাইল নাম্বারে টাকা দেওয়া হয়েছে। খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন, অন্য নম্বারে পাঠানো হয়েছে তার ভাতার টাকা। প্রতারণার মাধ্যমে তার ভাতার তথ্যে অন্য ব্যক্তির মোবাইল নম্বারে যোগ করা হয়েছে। টাকা ফেরত পেতে সমাজসেবা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ভাতার টাকায় আমার চিকিৎসা খরচ চলত। বাকিতে দোকান থেকে ওষুধ কিনেছি। বাকির ওই টাকা এখনো পরিশোধ করতে পারিনি। দিনের পর দিন সমাজসেবা অফিসে ঘুরেও টাকা পাচ্ছি না। এখন ওই বাকির টাকা পরিশোধ করব কিভাবে?

গয়াবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম খড়িবাড়ী গ্রামের রজব আলী ব্যাংক থেকে বয়স্ক ভাতা তুলেছেন বেশ কয়েকবার। সমাজ সেবা কার্যালয়ে তিনি তার মোবাইল নাম্বার দেন। ভাতার টাকা মোবাইলের মাধ্যমে দেওয়া হতেই তৈরি হয় জটিলতা। বিগত চার বছরে তিনি কোন ভাতার টাকা পাননি। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে জানতে পারেন তার ভাতার সব টাকা চলে গেছে অন্য নম্বারে!

তিনি বলেন, ভাতার টাকা কোথায় যাচ্ছে? কেন পাচ্ছি না? তা জানতে সমাজসেবা অফিসে চার বছর ধরে ঘুরছি। কারো নিকট থেকে সঠিক কোন উত্তর পাইনি! সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ দিলে তিন মাসের ভাতার টাকা পেয়েছি। তবে আগের কোন টাকার হাদিস নেই।

একই সমস্যার কারণে প্রায় আড়াই বছর ধরে সুবিধাভোগী ভাতা থেকে বঞ্চিত উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের সিরাজুল হক ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের আলেমা বেওয়া।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের উত্তর ঝুনাগাছ চাপানি গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী কুলসুম বেগমও এক বছর ধরে প্রতিবন্ধী ভাতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তার স্বজনেরা। তাদের ভাষ্যমতে, তারা কোন ফোন অথবা খুদেবার্তা পাননি। এরপরেও পিন নম্বার পরিবর্তন করে মোবাইল একাউন্ট থেকে তাদের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

নাউতারা ইউনিয়নের নিরদা বালার ছেলে সরেস চন্দ্র জানান, তার মা চার বছর ধরে বিধবা ভাতার আওতাভুক্ত। বিগত দিনে নিয়মিত ভাতা পেলেও গত দুই বছরে কোন টাকা পাননি।

বালাপাড়া ইউনিয়নের ডালিমন নেছা, রাশেদা বেগম, ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের মনিজা বেগম, কুলসুম বেগম, পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের সবুর জান, নাউতারা ইউনিয়নের আলেয়াসহ শতাধিক ভুক্তভোগী জানান তাদের টাকা পাঠানো হয়েছে ভুল নম্বারে। সমাজসেবা অফিসে ঘুরেও কোন লাভ হচ্ছে না। আমরা কোন টাকা পাচ্ছিনা।

এছাড়া নতুন ভাতাভোগীদের অনেকেই ভাতার টাকা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। যেমন, পচাঁরহাট গ্রামের জামিলা বেগম বিধবা ভাতার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সাত মাস আগে। তিন মাস পর পর যে টাকা আসার কথা সে টাকা এখনো আসেনি।

সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৬ হাজার ২৩০। এর মধ্যে বয়স্ক ১২ হাজার ১৮৫, প্রতিবন্ধী ৬ হাজার ৪৭ এবং বিধবা ভাতাধারী ৭ হাজার ৮৯৮ জন।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুরুন্নাহার নুরীর মোবাইল ফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নীলফামারী সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ভাতাভোগীদের মোবাইল নম্বরের পিন অনেক সময় হ্যাক হয়ে যায়। কিন্তু তারা বুঝতে পারেন না। হ্যাকাররা মোবাইল নম্বার হ্যাক করে অন্য মোবাইল দিয়ে টাকা তুলতে পারে।

 

 

তিনি আরো বলেন, কতজন ভাতাভোগীর টাকা অন্যের মোবাইলে গেছে বা টাকা পাচ্ছে না তাদের তথ্য ওই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছ থেকে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2024 Rangpurtimes24.Com
Developed BY Rafi IT