সোমবার, ২৪ Jun ২০২৪, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন

লালমনিরহাটে ৫০ বছরেও হয়নি সেতু!

লালমনিরহাটে ৫০ বছরেও হয়নি সেতু!

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের আদিতমারির ১৫ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা বাশেঁর সাঁকো।৫০ বছরেও হয়নি সেতু। সেতুর অভাবে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ১৫ গ্রামে লাখো মানুষ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পার হচ্ছেন শিশুসহ বৃদ্ধরা।  প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে মানুষদের।

৫০ বছরে ধরে লালমনিরহাটের আদিতমারির সতি নদী পার হয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে চন্দনপাট, পাবনাপাড়া, বামনেরবাসা, বেলতলি, বুড়িরদিঘী, কমলাবাড়ি, বড় কমলাবাড়ি, চরিতাবাড়ি, নিথক, শিয়ালখোওয়া, চাকলারহাট, সহ ১৫ গ্রামের লাখো মানুষ।এছাড়া প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় বুড়িরদিঘী হাইস্কুল,শিয়াল খোওয়া হাইস্কুল, একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিকা বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের । সেতু না থাকায় কৃষকের উৎপাদিত ফসল কেনা বেচা এবং যে কোন সময় যাতায়াতের জন্য সাকোঁই একমাত্র ভরসা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আদিতমারির চন্দনপাঠ সতি নদী পর্যন্ত কিছু দুর পাকা রাস্তা রয়েছে। সেই রাস্তার সামনে রয়েছে বাশেঁর সাঁকো। ঝুকি নিয়ে প্রতিদিন বাই সাইকেল,মটর সাইকেল কেউ বা পায়ে হেটে পারাপার করছে। স্থানীয়রা প্রতি বছর বাঁশ সংগ্রহ করে  নিজ উদ্যোগে বাশেঁর সাঁকো নির্মান করে চলাচল করে। বর্ষা আসলে অত্র এলাকার শিক্ষারর্থীদের কষ্ট  বেড়ে যায়। বাশেঁর সাঁকোতে পার হতে গিয়ে অনেক পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।

শিক্ষার্থী থেকে শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ সকল বয়সের মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বৃষ্টির দিনে এই ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করে। ঝুঁকিপূর্ণ সাকোঁতে মাঝেমধ্যে শিক্ষার্থীরা বেশি বিপাকে পড়ে। প্রায় ১৫০ মিটার প্রশস্ত সতি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি হলেও আজও তা পূরণ হয়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশব্যাপী উন্নয়নের জোয়ার চলছে। অথচ এখানে তেমন কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। প্রায় এক দশক আগে গ্রামের মধ্যে কিছু রাস্তা পাকা করা হলেও এখানে একটি সেতুর জনদাবি অপূর্ণই রয়ে গেছে। সেতুর দাবি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ধর্ণা দিয়ে না পেয়ে এলাকাবাসী হতাশ। আধুনিক যুগে এসেও ৫০ বছর আগের মতো এখনও ঝুঁকিপূর্ণ বাশেঁর সাকোঁই হচ্ছে পারাপারের একমাত্র ভরসা।

ওই সব গ্রামে রয়েছে, ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পারাপার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। অনেক সময় ভাঙ্গা সেতু থেকে পড়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বইখাতা, পরিধানের পোশাক ভিজিয়ে নাকানিচুবানি খেয়ে তীরে উঠতে হয়। এছাড়া এলাকায় রয়েছে বড় দুটি সাপ্তাহিক হাট।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাটের আদিতমারি উপজেলার কমলাবাড়ি ও চলবলা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে সতি নদী প্রবাহিত।এখানে সেতুটি হলে ১৫-১৬ গ্রামের লাখো মানুষের যোগাযোগের পথ সুগম হবে। পাশা পাশি জেলা ও বিভাগীয় শহর খুব কম সময়ে পৌছানো যাবে। সুবিধা পাবে অত্র এলাকার কৃষকরাও।

স্থানী স্কুল শিক্ষক আবুল কালাম বলেন, সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকভাবে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে পারে না। কয়েকবার সেতুর জন্য মাপ নেয়া হলেও পরবর্তীতে আর কোন কাজের অগ্রগতি হয়নি। এ ভাবেই দিনে পর দিন বাশেঁর সাঁকো উপর ভরসা করে চলাচল করতে হয়।

ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান বলেন, একটি সেতুর অভাবে আমরা দুই কিলো মিটার রাস্তা ঘুরে জেলা ও উপজেলা সদরে প্রবেশ করি।সেতুটি নির্মান হলে আমাদের অনেক সুবিধা হবে। সেতু হচ্ছে হচ্ছে বলে ৫০ বছর গেটে গেছে সেতু আর হয় না।

এ বিষয়ে কমলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ ওমর চিশতি বলেন, সতি নদীর উপর একটি ব্রীজের দাবী দীর্ঘ দিনের। পূর্বের চেয়ারম্যানরা এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিলেও অগ্রগতি হয়নি। কমলাবাড়ি ও চলবলা  সতি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলে দুই এলাকার মানুষের চলাল পাল্টে যাবে। তিনি সংশ্লিষ্ট উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

আদিতমারি উপজেলা প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম বলেন, সতি নদীতে সেতু নির্মাণের জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। সমাজকল্যান মন্ত্রী মহোদয়ও খুব আন্তরিক। আশা করি দ্রুতই এলাকাসীর দাবি পুরণ হবে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মঞ্জুর কাদের ইসলাম তার মোবাইল ফোনে বলেন,পর্যায়ক্রমে সব সেতু নির্মান করা হবে বলে তিনি রংপুরে এক মিটিং আছেন বলে ফোনটি কেটে দেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2024 Rangpurtimes24.Com
Developed BY Rafi IT