মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন

চলন্ত লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনে পুত্রসন্তান জন্ম দিল এক মা

চলন্ত লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনে পুত্রসন্তান জন্ম দিল এক মা

জেলা প্রতিনিধি,লালমনিরহাট।।

চলন্ত লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন এক নারী।

গত মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) ভোররাতে চলন্ত ট্রেনের টাংগাইল রেল স্টেশন ছাড়ার পর অন্তঃসত্ত্বা মনোয়ারা বেগম (২৫) পুত্রসন্তান জন্ম দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা থেকে লালমনিরহাট এক্সপ্রেস ট্রেনের লালমনিহাট আসছিল এক দম্পতি। টাঙ্গাইল রেলস্টেশন ছাড়ার পর অন্তঃসত্ত্বা মনোয়ারা বেগম (২৫) ওই নারীর সন্তান প্রসব ব্যাথা শুরু হয়। গভীর রাতে অনেকেই তখন ঘুমে মগ্ন।
এসময় প্রসববেদনায় কাতরাতে শুরু করেন প্রসুতী মা। তার কান্নার শব্দে ঘুম ভাঙে অনেকের। সেখানে থাকা লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডাঃ জহির উদ্দিন এর সহযোগিতায় চলন্ত ট্রেনেই ফুটফুটে একটি শিশুর জন্ম হয়। মা-ছেলে দুজনেই আছেন সুস্থ।

পরে ওই চিকিৎসকের পরামর্শে রেলওয়ে কতৃপক্ষ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া স্টেশনে মা-সন্তানকে নামিয়ে নিয়ে পুলিশের সহায়তায় উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ থাকায় অ্যাম্বুলেন্সে লালমনিরহাট নিয়ে আসা হয়।

ট্রেনের জন্ম দেওয়া নবজাতকের জননী মনোয়ারা বেগম লালমনিরহাট পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের শহীদ শাহজাহান কলোনি এলাকা বাসিন্দা।

সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ বছর আগে মনোয়ারা বেগমের সাথে আনারুলের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। স্বামী আনারুল ঢাকায় রড মিস্ত্রির কাজ করেন। মনোয়ারাও সেই সুবাধে তার স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় থাকেন। দীর্ঘ ১১ বছরের সংসার জীবনে তাদের একটি আট বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে।

মনোয়ারা বেগমের স্বামী আনারুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার স্ত্রী মনোয়ারার প্রসবের তারিখ ছিল সাতদিন পর । সে জন্য
স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন যোগে রওনা হই। পথিমধ্যে ট্রেনটি টাঙ্গাইল স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরপরই আমার স্ত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হয়। পরে ট্রেনে থাকা অন্যন্য যাত্রীরা ও এক ডাক্তারের সহযোগীতায় সফলভাবে সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হন। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছেন। তিনি ট্রেনে থাকা সকল যাত্রীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তার সন্তানের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

মনোয়ারা বেগম বলেন, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ নানা পরীক্ষার পর চিকিৎসক সম্ভাব্য প্রসবের দিন আগামী ২৮ ডিসেম্বর তাই স্বামীকে নিয়ে লালমনিহাটে বাবার বাড়িতে আসছিলাম। এরপর ট্রেনে বেদনা শুরু হলে আমি একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেই। ছেলের নাম এখনও রাখিনি।

পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. জহিরুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় কাজ সেরে লালমনিহাটে যাচ্ছিলাম। পরে ট্রেনের কামরায় একজন মায়ের ডেলিভারির কথা শুনে এগিয়ে যায়ই। সবার অনুরোধে ওই মায়ের ডেলিভারি করাতে সক্ষম হই। আল্লাহর রহমতে মাও শিশু দুজনের সুস্থ আছেন।

তিনি আরও বলেন,আল্লাহ আমার হাত দিয়ে এই প্রসূতি মায়ের প্রসব সম্পন্ন করিয়েছেন বলে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

লালমনিরহাট রেলওয়ে পুলিশের পরিদর্শক ফেরদৌস আলী বলেন, বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিক পর্যায়ে জেনে দায়িত্বরত এসআই মিন্টুকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেই। সেই বগিতে একজন চিকিৎসক ছিলেন, তাকে আমি অনুরোধ করলে তিনি প্রসব করার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2024 Rangpurtimes24.Com
Developed BY Rafi IT