মঙ্গলবার, ১৮ Jun ২০২৪, ০২:৩১ অপরাহ্ন

কালীগঞ্জে সরকারী চাল বস্তা পাল্টিয়ে গুটি স্বর্না নামে যাচ্ছে বাজারে

কালীগঞ্জে সরকারী চাল বস্তা পাল্টিয়ে গুটি স্বর্না নামে যাচ্ছে বাজারে

জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট।।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারী চাল বস্তা পরিবর্তন করে গুটি স্বর্ণা নামে বাজারে বিক্রি করছেন অসাধু কিছু ব্যবসায়ী। এসব সরকারী চাল বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার প্রতিবছর খাদ্য মন্ত্রনালয়ের অধিনে মিলারদের কাছ থেকে চাল ক্রয় করে থাকে। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারীত ওজনের বস্তায় এসব চাল ক্রয় করে থাকে। ক্রয় করা এসব চাল নির্ধারীত সুফল ভোগীর মাঝে বিতরন ও বিক্রি করে আসছে। এর মধ্য খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির সুফল ভোগীদের মাঝে ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে কার্ড প্রতি ৩০কেজি হারে চাল বিক্রি করে নির্ধারীত ডিলারের মাধ্যমে। একই ভাবে ভিজিডি কার্ডধারী সুফল ভোগীদের মাঝেও কার্ড প্রতি ৩০ কেজি হারে চাল বিনামুল্যে বিতরন করা হয়। এসব সুফল ভোগীদের মাঝে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চাল বিতরন ও বিক্রির জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তার উপজেলার চাহিদা অনুযায়ী ৩০ কেজি ওজনের চাল ক্রয় করেন। একই ভাবে ভিজিডি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির জন্য তা সরবরাহ করে থাকে।

এসব চাল সুফল ভোগীদের কাছে বিক্রি না করে কৌশলে কালো বাজারে বিক্রি করে অসাধু ব্যবসায়ী। এ ক্ষেত্রে তারা খাদ্য অধিদফতরের সীলমোহর যুক্ত বস্তা পরিবর্তন করে অন্য চাল আড়তের সীলমোহরের বস্তায় প্যাকেট করে বাজারে সরবরাহ করছে।

বেসরকারী চাল আড়তগুলোর বাজারে সরবরাহ করা চাল প্রতি ছোট বস্তায় ২৫ কেজি ও বড় বস্তা ৫০ কেজি ওজনের। ৩০ কেজি ওজন শুধুমাত্র সরকারী চাল। এ কারনে চক্রটি সরকারী চালের ৩০ কেজির বস্তা পাল্টিয়ে ২৫ কেজি ওজনের নতুন বস্তায় প্যাকেট করে বাজারে দেদারছে বিক্রি করছে।

এ ক্ষেত্রে একদিকে যেমন সরকারী সম্পদ কালোবাজারে বিক্রি করছে। একই ভাবে নিম্নমানের চালকে গুটি স্বর্ণাসহ বিভিন্ন নামে ভুয়া সীলমোহর দিয়ে ক্রেতাদের প্রতারীত করছে অসাধু ব্যবসায়ীর এ চক্রটি।

এ দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিরাম চৌধুরী মোড় এলাকার মেসার্স অলিয়ার ট্রেডার্সের গুদামে গিয়ে দেখা যায় শত শত সরকারী চালের বস্তা। তা পরিবর্তন করে ২৫ কেজি ওজনের দিনাজপুরের চিতা বাঘ মার্ক গুটি স্বর্ণা নামে প্যাকেট করা হচ্ছে। প্যাকেট শেষ হলে দ্রুতই তা চলে যাচ্ছে জেলার সকল বাজারে। খুবই নিরাপত্তার সাথে অনেকটা গোপনীয় ভাবেই করা হচ্ছে বস্তা পরিবর্তন ও সরবরাহের কাজ।

মেসার্স অলিয়ার ট্রেডার্সের মালিক অলিয়ার রহমান বলেন, সরকারী এসব চাল কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান কাঞ্চন ভাইয়ের। আমি শুধু নই, বেশ কিছু গুদামে দেয়া আছে এসব চাল। প্রায় দুইশত মেঃটন চাল দিয়েছিল। আমরা শুধু বস্তা পরিবর্তন করে ৩০ কেজির স্থলে ২৫ কেজি করে পাঠিয়ে দেই। তিনি কোথায় কি ভাবে বিক্রি করেন আমি জানি না।

এবিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান কাঞ্চন বলেন, এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। গুদাম মালিককে আমি কোনভাবেই চিনি না। এর সাথে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহির ইমাম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হলাম অবশ্যই পদক্ষেপ নিব। দ্রুত গুদাম গুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বলেন, সরকারি চাল কোন ভাবে কোন গোডাউনে থাকা কথা নয়। কোন অসাধু ব্যবসায়ী যদি সরকারি চাল স্বর্ণা প্যাকেটজাত করে তাহলে অবশ্যই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2024 Rangpurtimes24.Com
Developed BY Rafi IT